* বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতারা রমজান মাস উপলক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন
* দুই পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্যে বিষোদগার শুরু করেছেন
* এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কুৎসিত নোংরা ভাষায় আক্রমণ করছেন
সফিকুল ইসলাম
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই কোন্দলকে কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। এই কোন্দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা যারা মাঠের রাজনীতি করেন, সাংগঠনিক তৎপরতা করেন তারা নিজের হাত-পা গুটিয়ে রেখেছেন। ফলে এখন কিছুতেইে কোন্দল থামানো যাচ্ছে না। আর সামনে উপজেলা নির্বাচনে এই কোন্দল মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এক কথায় বলতে গেলে ফ্রি স্টাইলে যে যার মতো করে চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এতে প্রত্যেকটা জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছে দখলদারিত্ব। জানা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতারা রমজান মাস উপলক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন। দুই পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্যে বিষোদগার শুরু করেছেন। তারা এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কুৎসিত নোংরা ভাষায় আক্রমণ করছেন। এরকম একটি পরিস্থিতিতে সারাদেশে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ১৩ মার্চ নরসিংদী সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। গত বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে ইউনিয়নের বাখরনগর, মুরাদনগর ও বকশালীপুর গ্রামে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহ পক্ষের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ১৬ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতাল, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এরআগে ৯ মার্চ ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫টি গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় ঠেনঠেনিয়া বাজার থেকে লুৎফর নামে এক ব্যক্তি বাড়ি ফেরার পথে তাকে মারধর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। লুৎফর গত জাতীয় নির্বাচনে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জামাল হোসেনের ঈগল প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। এর জের ধরে সংসদ সদস্য শাহাদাব আকবরের সমর্থক ভাবুকদিয়া গ্রামের রিয়াজুলকে কুপিয়ে জখম করে ঈগলের সমর্থকরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দা বর্তমান সংসদ সদস্য শাহদাবের সমর্থক মুরাদ মোল্লা ও একই ইউনিয়নের ঈগলের (জামালের) সমর্থক সালাম মোল্লার পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। নির্বাচন পরবর্তীতে প্রতিদিন প্রতিটি জেলায় জেলায় এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটছে। একইভাবে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ থেকে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৩৯টি জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত, ৬০ জন গুলিবিদ্ধ ও ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের জেলা পর্যায়ে ৭৮টি সাংগঠনিক ও উপজেলা পর্যায়ে ৪৯৫টি ইউনিট। সময়মতো কাউন্সিল না হওয়ায় ৩০টিরও বেশি জেলা ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যেখানে ২৭টি জেলা ও শহর পর্যায়ের ইউনিটে অভ্যন্তরীণ কোন্দল অব্যাহত রয়েছে। জেলা পর্যায়ের ১৮টি ইউনিটে কাউন্সিল হওয়ার পরেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে দলীয় কোন্দল: আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরবর্তী কোন্দল বন্ধে বিভিন্ন রকম উদ্যোগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। বরং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাংগঠনিক অবস্থা রীতিমতো ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা এতে উদ্বিগ্ন-আতঙ্ক অনুভব করছেন। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা স্বীকার করেন, সংগঠন বলে এখন আর কোন কিছু নেই। এখন যে যার মতো করে ফ্রি স্টাইলে আওয়ামী লীগ চালাচ্ছেন। প্রত্যেকটা জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগে তৈরি হয়েছে দখলদারিত্ব এবং যে যার মতো পাচ্ছে সংগঠনকে ব্যবহার করছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য এটি ভয়ঙ্কর প্রবণতা বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। তবে নির্বাচনের পরই কোন্দল বন্ধের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে নেতাদেরকে কোন্দল বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। কিন্তু এতেও কাজ হয়নি। এরপর কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে একই রকম আহ্বান জানানো হয়। এর ফলও খুব একটা ইতিবাচক হয়নি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে কোন্দল বন্ধের জন্য তাগিদ দেয়। কিন্তু তারপর দেখা যাচ্ছে যে কোন্দল বন্ধ হয়নি। তার ওপর উপজেলা নির্বাচন নিয়েও আওয়ামী লীগের ভেতর একাধিক বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি হয়েছেন তারা উপজেলা নির্বাচনে তাদের কর্তৃত্ব অব্যাহত রাখার জন্য পছন্দের প্রার্থী দিচ্ছেন। অন্যদিকে যারা এই আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি হতে পারেনি, স্বতন্ত্রদের কাছে পরাজিত হয়েছেন তারা এখন নিজেদের হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাচনকে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো যে, আওয়ামী লীগের যে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন আছে তারাও এখন ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়ছে। দলীয় এমপিদের পক্ষে, পরাজিত স্বতন্ত্রদের পক্ষে ইত্যাদি নানা ভাগ উপভাগে আওয়ামী লীগ এখন বিভক্ত। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। সবকিছু মিলিয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কোন্দল।
দলকে শৃঙ্খলায় ফেরাতে বিশেষ নির্দেশনা: আওয়ামী লীগের যে সকল সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, তাদেরকে সংগঠন গোছানোর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। দলের অন্তর্কলহ দূর করা, দলের মধ্যে বিভক্তি ও কোন্দল ঠেকানো এবং দলকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য এসব নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে। তারা জেলায় জেলায় সফর করবেন। প্রয়োজনে জেলা, উপজেলা নেতাদের ঢাকায় তলব করবেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেকেনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে দলকে সুসংগঠিত করে রাখাই হচ্ছে দলটির মূল লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ মনে করছে সামনের দিনগুলোতে সাংগঠনিক বিরোধ আরও বাড়বে। বিশেষ করে কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে যে, দলের ভিতর বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে। সামনের দিনগুলোতে যখন বিরোধী দল আন্দোলন করবে তখন এই কোন্দল যদি বন্ধ না করা যায় তাহলে তা বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, দলের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন, সেই ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদককে ৮টি বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাউকেই মন্ত্রী করা হয়নি। আওয়ামী লীগ এখন যে সংগঠন পুনর্গঠন এবং দলের বিভক্তি বিভাজন দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেই উদ্যোগে এই ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদককে মূল দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। তারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে তদারকি করার জন্য বা সাংগঠনিক সম্পাদকদের সার্বক্ষণিকভাবে পরামর্শ, উপদেশ এবং নির্দেশনা দেয়ার জন্য দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। এরা হলেন- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং বাহাউদ্দিন নাছিম। এই দুজনই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত নন। তারা এখন সার্বক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক বিষয়গুলোকে দেখবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শক্তভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে দলেরই বেশি ক্ষতি হবে। আর আওয়ামী লীগের ক্ষতি মানে দেশের ক্ষতি হওয়া। সাধারণ মানুষের ক্ষতি হওয়া। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভক্তি এবং কোন্দল বেড়ে গিয়েছিল। এই সময় আওয়ামী লীগে যারা মনোনয়ন পেয়েছিল তাদের সাথে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ-পদবিধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরোধ এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অনেকেই মনে করেছিলেন যে, নির্বাচনের পর এই সহিংসতা বন্ধ হবে। কিন্তু নির্বাচনী সহিংসতা এমন এক ধরনের যুদ্ধ যেটি যুগ যুগ ধরে চলে। এখন আওয়ামী লীগকে সেই ভার বহন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক বার বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে যে, যেন বিরোধগুলো মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেই বিরোধের মীমাংসার জন্য কেউই আসলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আওয়ামী লীগের মূল সমস্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জানুয়ারির পর যে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে, সেই মন্ত্রিসভায় মাঠের নেতারা জায়গা পাননি। বিশেষ করে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মাঠে যারা জনপ্রিয় তারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। ফলে স্বাভাবিক ভাবে তাদের মধ্যে একটি হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই হতাশা থেকে তারা রাজনীতিতে নিজেদেরকে কম সময় দিচ্ছেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মীমাংসায় উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না। অবশ্যই সমস্ত জনপ্রিয় নেতাদের পক্ষ থেকে অন্য ধরনের কথা বলা হচ্ছে। তারা বলছেন, মাঠের নেতারা এখন মন্ত্রী ছাড়া নেতাদের কথায় খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। তারা মন্ত্রীদের কথা শুনতে চান। অথচ মন্ত্রীরা কোন্দল নিরসনে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে না। ফলে মাঠে যখন কোন্দল নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নেয়ার কথা, তারা সেই ভূমিকা নিতে পারছেন না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যারা এমপি হয়েছেন দলীয় প্রতীকে, তারা এখন স্বতন্ত্রদের নির্মূল করার অভিযানে নেমেছেন। আবার স্বতন্ত্রদের যারা আওয়ামী লীগকে টেক্কা দিয়ে এমপি হয়েছেন, তাদেরকে কোণঠাসা করার জন্য পরাজিত প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। যেমন বরিশালের কথাই যদি ধরা যায় পঙ্কজ দেবনাথ সেখানে বিজয়ী হয়েছেন। শাম্মী নারী কোটায় এমপি হয়ে নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের এ সমস্ত মন্তব্য আওয়ামী লীগকেই শুধু বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে না, দলকে চিরস্থায়ী বিভক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এরকম সব জায়গায় আওয়ামী লীগের বিরোধ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই বিরোধ মীমাংসা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন উন্মূক্ত করে দেয়ার ফলে এখন যে যার মত করে প্রার্থী হচ্ছেন। এটি স্বতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে শক্তি পরীক্ষার একটা বড় ধরনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এই শক্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের কোন্দল ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
